বাঙালির ভোট উৎসব-----
ভারতবর্ষের পার্লামেন্টের পথচলা শুরু সেই ১৯৫২ সালে। অন্যান্য রাজ্যের মতন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৪২ জন নির্বাচিত হন জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে। বীরেন্দ্র নাথ মুখার্জি, ত্রিদিব চৌধুরী, অশোক সেন,
জ্যোতির্ময় বসু, সিদ্ধার্থ শংকর রায়, শচীন্দ্র নাথ মাইতি এঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন বাগ্মী। যাদের যুক্তিপূর্ণ ভাষন শাসক বিরোধীদের নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়তো। পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সি, সমর মুখার্জি, বাসুদেব আচারিয়া দের। এনাদের ভাষনও শাসক, বিরোধীদের চিন্তায় ফেলে দিত। প্রনব মুখার্জি তো ছিলেন জীবন্ত সংবিধান। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সমস্যা নিয়ে এরা সরগরম হতেন। প্রশ্নবানে জর্জরিত করতেন মন্ত্রীদের এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও ছাড়তেন না।
আবার ভোট এসেছে। বাঙালিদের কাছে ভোট এক উৎসবের সমান। এমন অনেকেই আছেন যাদের বাড়িতে ভোটের দিন ঘরেতে স্পেশাল রান্না হয়। কেউ কেউ নিজের পছন্দের দলকে জেতানোর জন্য ঠাকুর দেবতার কাছে মানত করেন। ভোটের সময় বাঙালিদের মেজাজটাই অন্যরকম থাকে। অনেক নামীদামি তারকারা আজকাল ভোটে দাঁড়ান। তারকাদের কেউ পর্দার, কেউ টেলিভিশনের, কেউ কেউ আবার গান গেয়ে নাম করেছেন বিস্তর। কারো খ্যাতি মন কেড়েছে মানুষের। কেউ আসেন টালিগঞ্জ থেকে কেউবা মুম্বাই থেকে। ছড়িয়ে পড়েন বাংলার গা গঞ্জ এ। ছোটেন, হাঁটেন মাঠ,ঘাট, আলপথ ধরে। পিছনে ছোটেন ভক্তের দল।পড়িমড়ি, হুটোপাটি, ঠেলাঠেলি। তাদের সামলাতে হিমশিম খান নেতা, পুলিশ সবাই। কখনো হাতজোড়, কখনো লাঠালাঠি। কিন্তু কে শুনবে এই সব বেয়াদপি শাসন। ভক্তদের কাছে শাসন, ভাষন সব তুচ্ছ। সে এক বিশাল স্ফূর্তির ব্যাপার স্যাপার।
নেতাদের ভাষন মানেই সেই ধানের দর, আলুর দাম, সারের মূল্য নিয়ে আকচাআকচি। সব সময় না পাওয়ার কথা। রুপোলি পর্দা, মঞ্চ এর জীবন্ত মানুষ যে একদম সামনে। এ সুযোগ কেউ ছাড়তে চায়। ছেলে বুড়ো সকলেই তাই মাতোয়ারা হয়ে যায়। অভাবের গ্রামে কিছুদিনের জন্য খুশীর বান ডাকে, আলো জ্বলে, বাজনা বাজে।
তারকারা খালি মেকাপ করে ঝলমলে কাপড় পড়ে হাতজোড় করে থাকেন, মাঝে মাঝে দু একটি ফ্লিমের সংলাপ আওড়ান। তাতেই হাততালি, সিটির বন্যা বয়ে যায়। ঢাকা পড়ে যায় মানুষের দাবী দাওয়া, চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা।
হারিয়ে যায় অসহায় হেপো বুক, হাড়গিলে, বিষ হাওয়ায় দীর্ন জীর্ন মেয়ে মদ্দ শীশুদের কান্না।
যেটা আবার ফিরে আসে ভোটের পরে। তারকারা তখন সেলিব্রেশন করতে ব্যাস্ত থাকেন। জিতে যাওয়া তারকারা পার্লামেন্টে যান শপথ নিতে। তারপর ব্যাস্ত হয়ে পড়েন ফ্যাশন, ডায়েটিং, ফ্লিম, মঞ্চ, গান নিয়ে। জনগনের সমস্যা নিয়ে মন্ত্রী কে প্রশ্ন বা কোন বিতর্কে অংশগ্রহণ সেটা নৈব নৈব চ।
মিডিয়ায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি তা মিডিয়াতেই থেকে যায় আর হতাশা আবার ফিরে আসে সেই গরীব মানুষের কাছে।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thank you for Comment